রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার-এর মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল রোববার দুপুরে প্রশাসন ভবনের রেজিস্ট্রারের কক্ষে। পরবর্তীতে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
কী ঘটেছিল রেজিস্ট্রারের দপ্তরে
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম তাঁর কক্ষে রাজশাহী মহানগর এনসিপি নেতাদের সঙ্গে একটি সভা করছিলেন। এ সময় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ তোলেন যে, রেজিস্ট্রারের দপ্তরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। এরপর তিনি অনুমতি ছাড়াই কক্ষে প্রবেশ করলে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভিডিওতে দেখা যায়, সালাহউদ্দিন আম্মার রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমি স্যার ভেতরে আসব না?” রেজিস্ট্রার জবাব দেন, “তোমাকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেছি।”
এরপর সালাহউদ্দিন বলেন, “আপনি স্যার চিঠি আটকে রাখছেন।” রেজিস্ট্রার রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, “এই বেয়াদব ছেলে, কীসের চিঠি আটকে রাখছি আমি?”
সালাহউদ্দিন উত্তরে বলেন, “বেয়াদব তো আমি, ডেফিনেটলি বেয়াদব।” রেজিস্ট্রার তখন প্রশ্ন করেন, “তুমি কে ওই বিভাগের?”
উত্তরে আম্মার বলেন, “আমি রাকসুর নির্বাচিত জিএস।”
ঘটনাপ্রবাহের পেছনের প্রেক্ষাপট
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। রোববার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব ওই শিক্ষকের অব্যাহতির চিঠিতে সই করেন। শিক্ষার্থীরা চিঠির অগ্রগতি জানতে রাকসু নেতাদের কাছে গেলে সালাহউদ্দিন বিষয়টি যাচাই করতে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে যান।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “রেজিস্ট্রার প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। আমি দায়িত্ববোধ থেকে যাচাই করতে গিয়েছিলাম, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।”
অধ্যাপক ইফতিখারুল আলমের দাবি, “সালাহউদ্দিন অনুমতি ছাড়াই কক্ষে ঢুকে অশোভন আচরণ করেছেন। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির নিয়োগপ্রক্রিয়া তখন চলমান ছিল, কোনো ফাইল আটকে রাখা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীসংক্রান্ত বিষয়ে রাকসুর নেতারা আসতে পারেন, তবে প্রশাসনিক নিয়োগে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত।”
এনসিপি ও ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া
এনসিপি রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের রাজ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, “ঘটনার সময় সেখানে বিএনপির কেউ ছিলেন না। আমরা সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ বিতর্ক তৈরি হয়।”
অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) বলেন, “বিএনপির নাম টেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে বিএনপির কেউ ছিল না।”
রাকসু ভিপির মন্তব্য
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) ফেসবুকে লিখেছেন, “নির্বাচনের পর প্রশাসনের আচরণে পরিবর্তন আসার কথা ছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা এখনো রাকসুর প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন।”
📹 ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করছে।
